তোমরা কি জানো, আমাদের চট্টগ্রামে এমন একটি স্কুল-কলেজ আছে যা তোমাদের দাদা-পড়দাদাদের আমল থেকেও পুরনো? হ্যাঁ, ঠিক ধরেছো! আমরা কথা বলছি চট্টগ্রাম কলেজ নিয়ে। অনেকেই জানতে চায় চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ কয়টি? উত্তর হলো, এই নামে আমাদের চট্টগ্রামে একটিই দারুণ আর বিখ্যাত সরকারি কলেজ আছে। এই কলেজটি কিন্তু আজকালের নয়, চট্টগ্রাম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৯ সালে! তার মানে, এটি প্রায় দেড়শত বছরেরও বেশি পুরনো একটি রাজপ্রাসাদের মতো, যেখানে হাজার হাজার রাজপুত্র আর রাজকন্যারা পড়াশোনা করতে আসে। প্রতি বছর অসংখ্য শিক্ষার্থী এখানে পড়ার স্বপ্ন দেখে। তাই নতুন বছরের শুরুতেই সবাই চট্টগ্রাম কলেজ ভর্তি তথ্য ২০২৫ লিখে ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজি শুরু করে দেয়।
শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি
চচট্টগ্রাম সরকারি কলেজের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও পরিচিতি
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এবং শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নাম নিলেই সবার প্রথমে চলে আসে চট্টগ্রাম কলেজের নাম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মনে প্রায়শই একটি প্রশ্ন জাগে যে, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ কয়টি? মূলত, এই ঐতিহাসিক নামে চট্টগ্রামে একটি মাত্র সরকারি কলেজই রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে ‘চট্টগ্রাম কলেজ’ নামে সমধিক পরিচিত।
মেধা ও মনন চর্চার এই অনন্য বিদ্যাপীঠের রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। অনেকেই জানতে চান, চট্টগ্রাম কলেজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পর্তুগিজদের বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চকবাজারের ঐতিহাসিক প্যারেড মাঠের পাশে, দূরদর্শী কিছু মানুষের হাত ধরে ১৮৬৯ সালে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে ইন্টারমিডিয়েট কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে এখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। দীর্ঘ ১৫৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলের শিক্ষাদীক্ষা ও সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ভর্তির যোগ্যতা ২০২৬ ও ভর্তি তথ্য
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেশনে চট্টগ্রাম কলেজে অনার্স ১ম বর্ষে ভর্তির জন্য মূল গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো:
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: আবেদনকারীকে এসএসসি (২০২২/২০২৩) এবং এইচএসসি (২০২৪/২০২৫) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
- ন্যূনতম জিপিএ: মানবিক শাখার জন্য উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ এবং বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে।
- ভর্তি প্রক্রিয়া: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ওয়েবসাইটে (
www.nu.ac.bd/admissions) অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন করতে হয়। মেধা তালিকা প্রকাশের পর চূড়ান্ত নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কলেজের পোর্টালে লগইন করে ফরম পূরণ ও বিকাশ/রকেটের মাধ্যমে নির্ধারিত ভর্তি ফি প্রদান করে স্ব-স্ব বিভাগে কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ভর্তির জন্য কত পয়েন্ট লাগবে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম কলেজে অনার্সে আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হয়। তবে এটি কেবল আবেদনের যোগ্যতা; তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে মেধা তালিকায় টিকতে হলে আরও ভালো পয়েন্টের প্রয়োজন পড়ে।
বিভাগ অনুযায়ী একটি নিরাপদ জিপিএ-র ধারণা নিচে দেওয়া হলো:
- বিজ্ঞান বিভাগ: রসায়ন বা পদার্থবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে সুযোগ পেতে দুই পরীক্ষা মিলিয়ে মোট জিপিএ ৯.৫০ থেকে ১০.০০ থাকা নিরাপদ।
- মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: ইংরেজি, অর্থনীতি বা হিসাববিজ্ঞানের মতো জনপ্রিয় বিষয়গুলোতে মেধা তালিকায় আসতে সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৮.৫০ থেকে ৯.৫০ প্রয়োজন হয়।
সংক্ষেপে, আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা জিপিএ ৩.৫০ হলেও, মেধা তালিকায় জায়গা করে নিতে হলে মোট জিপিএ যত বেশি থাকবে, ভর্তির সম্ভাবনা ততটাই নিশ্চিত হবে।
চট্টগ্রাম কলেজে অনার্স আসন সংখ্যা ও বিষয়ের বিবরণ
উচ্চমাধ্যমিকের বৈতরণী পার হয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে চট্টগ্রাম কলেজে অনার্স (স্নাতক সম্মান) কোর্সে ভর্তি হওয়া। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলোর মধ্যে পড়াশোনার মান ও ফলাফলের দিক থেকে এটি সবসময়ই শীর্ষ তালিকায় থাকে।
শিক্ষা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের নূন্যতম যোগ্যতা ও ভর্তি বিজ্ঞপ্তি
বর্তমানে চট্টগ্রাম কলেজে অনার্স আসন সংখ্যা প্রায় ৩,৫০০টি। কলেজটিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে প্রায় ২০টি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে অনার্স করার সুযোগ রয়েছে। বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিদ্যার মতো প্রধান বিষয়গুলোতে প্রতি বছর আসন সংখ্যার বিপরীতে তীব্র প্রতিযোগিতা হয়। আসন সংখ্যা পর্যাপ্ত হলেও আবেদনের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ায়, কেবল মেধা তালিকার শীর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরাই এখানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে।
চট্টগ্রাম কলেজ অনার্স ভর্তি ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি নীতিমালার আলোকেই চট্টগ্রাম কলেজের ২০২৬ সালের অনার্স ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
- আবেদন যোগ্যতা (জিপিএ): ২০২৬ সালের সেশনে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ এবং মানবিক শাখার জন্য ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম কলেজে মেধা তালিকায় টিকতে হলে দুই পরীক্ষা মিলিয়ে জিপিএ ৮.৫০ থেকে ১০.০০ থাকা নিরাপদ।
- ভর্তি প্রক্রিয়া: কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ-র ভিত্তিতে মেধা তালিকা তৈরি করা হবে।
- আবেদনের মাধ্যম: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ভর্তি পোর্টালে গিয়ে অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং নির্ধারিত আবেদন ফি (বিকাশ/রকেট বা ব্যাংকিং মাধ্যমে) জমা দিতে হবে।
নোট: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ২০২৬ সালের ভর্তির সুনির্দিষ্ট সার্কুলার বা তারিখ প্রকাশের সাথে সাথেই আবেদনের নিখুঁত সময়সূচি জানা যাবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি
চট্টগ্রাম কলেজে মাস্টার্স ভর্তির যোগ্যতা
Chattogram College মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) শেষপর্ব কোর্সে ভর্তির জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী নিচের যোগ্যতাগুলো থাকতে হয়:
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: আবেদনকারীকে চার বছর মেয়াদি অনার্স (স্নাতক সম্মান) পাস হতে হবে। (প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পাশ করা শিক্ষার্থীরাও শর্তসাপেক্ষে আবেদনের সুযোগ পান)।
- ন্যূনতম জিপিএ/সিজিপিএ: অনার্সে ন্যূনতম সিজিপিএ (CGPA) ২.৫০ (কিংবা সনাতন পদ্ধতিতে ২য় শ্রেণী) থাকতে হবে।
- ভর্তির ভিত্তি: মাস্টার্সে ভর্তির জন্য আলাদা কোনো পরীক্ষা হয় না; অনার্সের ফলাফলের (CGPA) ওপর ভিত্তি করে মেধা তালিকা তৈরি করা হয়। একই কলেজের শিক্ষার্থীরা ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন।
চট্টগ্রাম কলেজে মাস্টার্স আসন সংখ্যা
অনার্সের তুলনায় মাস্টার্স পর্যায়ে আসন সংখ্যা কিছুটা সীমিত থাকে।
- মোট আসন: কলেজটিতে সব বিভাগ মিলিয়ে মাস্টার্স (নিয়মিত) কোর্সে মোট আসন সংখ্যা প্রায় ২,৫০০ থেকে ২,৮০০টি।
- বিভাগভিত্তিক আসন: বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের মতো প্রধান বিষয়গুলোতে ডিপার্টমেন্টভেদে সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০টি করে আসন বরাদ্দ থাকে।
চট্টগ্রাম কলেজের ছবি
চট্টগ্রাম কলেজের কিছু ছবি নিচে দেওয়া হল



উপসংহার
শিক্ষা, ঐতিহ্য আর মেধার এক অনন্য মেলবন্ধন চট্টগ্রাম কলেজ। দেড়শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের সারথি হয়ে আছে। তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে এখানে অনার্সে কিংবা মাস্টার্সে ভর্তি হওয়া কিছুটা কঠিন হলেও, কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক জিপিএ থাকলে এই ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পাসের অংশ হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। আশা করি, চট্টগ্রাম কলেজের আসন সংখ্যা, ভর্তির যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় পয়েন্ট সংক্রান্ত এই তথ্যগুলো আপনার উচ্চশিক্ষার পথকে আরও সহজ করবে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনিও মেতে উঠুন এই সবুজ চত্বরের জ্ঞানচর্চায়। আপনার শিক্ষাজীবনের জন্য রইল অনেক শুভকামনা!
